coronaBreaking News Health 

করোনা প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞ-চিকিৎসকদের অতি প্রয়োজনীয় দাওয়াই

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: চিকিৎসক-বিশেষজ্ঞরা বলছেন কোভিডের ৩টি স্তর। প্রথমত নাকে অবস্থান, দ্বিতীয়ত গলায় এবং তৃতীয়ত ফুসফুসে। এই সংক্রমণের প্রধান লক্ষণ গুলি হল– গলা চুলকানো, শুকনো কাশি, গলা শুকিয়ে যাওয়া, উচ্চ তাপমাত্রা, শ্বাসকষ্ট, গন্ধ হারিয়ে ফেলা।

(১) নাকে অবস্থানকালীন অর্ধেক দিনের মধ্যে কোভিড-১৯ প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে। এক্ষেত্রে চিকিৎসক-বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গরম জলের ভাপ নেওয়া, ভিটামিন ‘সি’ গ্রহণ করলে অনেকটা উপকার হতে পারে। এই সময় সাধারণত জ্বর হয় না।

(২) গলায় থাকাকালীন ১ দিনের মধ্যে এই ভাইরাস প্রতিরোধ করা সম্ভব। এক্ষেত্রে গলা ব্যথা এবং জ্বর হতে পারে। চিকিৎসক-বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, এইসময় গরম জলের গারগল, গরম জল পান করা বিশেষ উপকারী। পাশাপাশি ভিটামিন ‘সি’, ‘বি-কমপ্লেক্স’ খাওয়াও যেতে পারে। যদি জ্বর থাকে তাহলে প্যারাসিটামল খেতে হবে। পরিস্থিতি মারাত্মক হলে ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিব্যায়োটিক নিতে হবে।

(৩) ফুসফুসে অবস্থানকালীন ৪-৫ দিনের মধ্যে কোভিড-১৯ প্রতিরোধ করা সম্ভব। এইসময় কাশি, শ্বাসকষ্ট, জ্বর থাকতে পারে। চিকিৎসক-বিশেষজ্ঞরা এক্ষেত্রে বলছেন, এইসময় গরম জলের গারগল, ভিটামিন ‘সি’, ‘বি-কমপ্লেক্স’, অক্সিমিটার, প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে। গুরুতর পরিস্থিতির জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার রাখা ভাল। পাশাপাশি এইসময় প্রচুর তরলের প্রয়োজন হয়। গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম অনেকটাই উপকারী।

আবার চিকিৎসক-বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, হাসপাতালে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি হলে অক্সিজেনের স্তর পর্যবেক্ষণ করুন। যদি এটি ৪৩ (স্বাভাবিক ৯৮ থেকে ১০০)-এর কাছাকাছি যায় তবে আপনার অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রয়োজন হবে। যদি এই ব্যবস্থা বাড়িতেই থাকে তাহলে আপনাকে হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।

চিকিৎসক-বিশেষজ্ঞদের আরও মতামত, পরামর্শ মেনে আইসোলেশন হাসপাতালের সুবিধা আমরা ঘরে বসেই নিতে পারি। আইসোলেশন হাসপাতালে যেসব ওষুধগুলি ও প্রক্রিয়াগুলি অনুসরণ করা হয় (ক) ভিটামিন ‘সি’ -১০০০, (খ) ভিটামিন-‘ই’ (ই), (গ) সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য রোদ্রে থাকা, (ঘ) দিনে ১ বার ডিম সহ আহার, (ঙ) সর্বনিম্ন ৮ ঘন্টা ঘুম বা বিশ্রাম, (চ) প্রতিদিন ১.৫ লিটার জল পান করা। এবিষয়ে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সবসময় খাবার গরম করে খাওয়া উচিত। এই সময় কোনও ঠান্ডা খাবার খাওয়া উচিত নয়। হালকা গরম জলে স্নান করা উচিত।

জানা যায়, করোনা ভাইরাসের পিএইচ স্তর ৫.৫ থেকে ৮.৫-এর মধ্যে ঘোরাফেরা করে। সেই কারণে ভাইরাসের অম্লতা স্তরের বেশি ক্ষারযুক্ত আহার গ্রহণ করতে হবে। যেমন– কলা, সবুজ লেবু (পাতি/ কাগজি) , হলুদ লেবু, অ্যাভাকাডো, রসুন, আম, টেঞ্জারিন, আনারস, কমলা লেবু ইত্যাদি। পাশাপাশি হালকা গরম জলে লেবু মিশিয়ে পান করলে ফুসফুসে পৌঁছানোর আগেই তা রোখা সম্ভব হতে পারে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের আরও মত, কোভিড রোধে যে সমস্ত প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল কিট বাড়িতে রাখা অত্যন্ত জরুরি: যেমন– (১) প্যারাসিটামল, (২) মাউথওয়াশ ও গারগল করার জন্য বিটাডাইন, (৩) ভিটামিন-‘সি’ ও ভিটামিন-‘ডি৩’, (৪) ভিটামিন-‘বি কমপ্লেক্স’, (৫) ভ্যাপার নেওয়ার জন্য ক্যাপসুল, (৬) অক্সিমিটার, (৭) অক্সিজেন সিলিন্ডার (কেবলমাত্র জরুরি প্রয়োজনের জন্য), (৮) ‘আরোগ্য সেতু’ অ্যাপ (৯) শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম এবং (১০) কোভিড সংক্রান্ত জরুরি পরিষেবাগুলির ফোন ও হেল্পলাইন নম্বর।

Related posts

Leave a Comment